পুরুষ লোকের আগে বাড়া টা অনেক সহজ হয় , ঘর থেকে শুরু করে বাইরে যেখানে ই যান , সবাই তাদের সাপোর্ট সিস্টেম এর মতো কাজ করে , সমাজ সমাজের মেয়ে বা পুরুষ সবাই করে এই সাপোর্ট l অন্য দিকে মেয়ে লোকের আগে বাড়ার অন্তরায় থাকে তার ঘর, বাহির এমন কি সমাজের অন্যান্য মেয়ে লোক রা নিজে ই l
তারপর ও কিছু মানুষ আগে বাড়ে .. কাজ করে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য , বা সমাজের কল্যানে, কিন্তু তারা যতটা কষ্টে আর পরিশ্রমে আগে বাড়ে , ততটা বাহবা পায় না বরং তাদের কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণে কিভাবে তাদের কে নিচে নামানো যায় কোথায় কোথায় তর্জনী দিক নির্দেশনা দেয়া যায় সে চেষ্টা চলতে থাকে জীবন কাল বা তার পরের ও যদি কাল পাওয়া যায় সে পর্যন্ত !
ঘরে তরকারি তে লবন কম হলে যতটা শুনতে হয়, ভালো কিছু তে ততটা গুনতে দেখা যায় না l মেয়ে লোকের প্রশংসা কম হয় বা হয় না , কারণ সে মানুষ হিসাবে মূল্যায়ন হওয়ার আগে নারী হিসাবে বিবেচিত হয় … আর সবাই এরকম মানে যে ..নারীর জন্য প্রশংসা হিসাব করে করতে হয় , আমার আসলে মনে হয় যে নারীর মূল্যায়ন আর প্রশংসা করার জন্য যে উদার মানুসিকতা দরকার তা সমাজের খুব কম সংখ্যক মানুষের ই থাকে l
আমরা মেনে নেই … চুপ থাকি সমাজ এক ই নিয়মে আগে বাড়ে … l
আমার কখনো ই ছেলে হতে ইচ্ছে করে না, কখনো ই না ! কিন্তু কয়েকবার কয়েকটা বিষয়ে আফসোস হয় ছেলে না হওয়ার জন্য l যেমন যখন পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করি আমার সাথে পরিচিত আরেকজন পুরুষ লোক ও পিএইচডি ডিগ্রী পেয়েছিলো… কাছা কাছি সময়ে , তার কি বাহবা হলো… সামাজিক সম্বর্ধনা হলো আর যারা আমি পিএইচডি করছি জেনে বলেছে আমি ডিগ্রী পেলে সবাই মিলে আমাকে সম্বর্ধনা দিবে …যখন আমি ডিগ্রী পেলাম সার্টিফিকেট পেলাম তাদের কে আমি আর তা নিয়ে কথা বলতে শুনিনি l এমন ই যে জেন্ডার ভেদাভেদ … l আমার মনে হয় উনারা মনে করে ছিল, আমি পিএইচডি ডিগ্রী পাবো না , সে বিস্বাসে বলছিলো যে আমাকে সম্বর্ধনা দিবে l যদিও এতটা আমি আশা করিনি , নুন্যতম ভদ্রতার সে কংগ্রাচুলেশন্স দেয়ার উদারতা ও দেখি নি তাদের মাঝে ! কি ভাবছেন কষ্টের কথা লিখছি? না এই কষ্ট গুলো জীবনের ইয়ো ইয়ো কষ্ট আমার ! আমাকে কেউ নিচে নামিয়ে দিলে বা সে চেষ্টা করলে সে চেষ্টা আমাকে সেই শক্তি তে নিজের ভেতরের আগে বাড়ার আরো শক্তি দেয় !
যখন কলেজে পড়ি একাদশ দ্বাদশ শ্রেণী…
তখন আমাদের কলেজ এক কুইজ কম্পিটিশন এর আয়োজন করে, শুরুতে ঘোষণা করা হলো ২ দল ছেলে আর মেয়ে দল l সাথে আরো ঘোষণা হলো বিজয়ী দল কে পুরুস্কার দেয়া হবে l প্রত্যেক সপ্তায় ১ দিন হতো, আমি আর আমার ছোট বোন আমরা একটা কুইজ গেম খেলতাম তখন বাসায় কার্ড এর মতো ছিল l কেউ আমাদের গিফট করেছিল l খেলতে খেলতে অনেক কিছু জানা হয়ে যেত… সে ই অভিজ্ঞতা কাজে আসলো l কলেজ এর কুইজ কম্পিটিশন এ ৪ / ৫ সপ্তায় আমাদের স্কোর অনেক আগে বেড়ে গেলো হটাৎ করে ক্যানছেল হয়ে গেলো টোটাল ৮ সপ্তাহ হবে কথা ছিল , ছেলেরা খুব খুশি মেয়েদের কাছে হারতে হবে না l আমি কারণ টা জানতে চাইলাম ? কোনো উত্তর পাওয়া গেলো না l তারপর চিন্তা করলাম প্রাইজ হিসাবে মনে হয় লুঙ্গি গামছা কিছু কিনেছিলো স্যার রা , কিন্তু ছেলেরা জিততে পারবে না সিদ্দান্তে বন্দ করে দিলো l এই ঘটনাটা আমাকে মনে রাখার মতো প্রশ্নবোদক উপলব্ধি দিয়েছে তখন l প্রাইজ বড় কথা ছিল না l ব্যাপার টা ছিল মাঝপথে থেমে যাওয়া বিজয় l অনাকাঙ্খিত থেমে যাওয়া বা থামিয়ে দেয়া l
যখন বি এড , এম এড করি তখন আমাদের গ্রুপ ভিত্তিক দেয়াল পত্রিকার আয়জন উৎসব হলো… তখন আমি পুরো দমে লেখক… যদিও নিজের কাছে l
আমি লম্বা এক প্রবন্ধ লিখি , বিষয় বস্তু নারীর সাথে সমাজের কথোপকথন l তেমন বিপদজনক লেখা ছিল না, কিন্তু আমাদের এডিটর সাহেব কে দেখলাম আমাকে প্রশ্ন করলেন কেন এরকম লিখা দিচ্ছি? উত্তর দিলাম..মত প্রকাশ করছি অনুভিতি আর অভিগ্যতায়, … যখন দেখলো সামনে থামানো যাবে না
আর কিছু বলেনি, কিন্তু আমি দেখলাম আমার লেখা আছে দেয়ালে , যখন ফাইনাল ডিসপ্লে হলো তখন দেখলাম আমার লেখা টা নেই l যদিও ওর মুখে ই চড় মারতে ইচ্ছে হলো কিন্তু সভ্য সমাজে সভ্য উত্তর দিতে হয় l আসলে আমার লেখা তার মর্দাঙ্গী কে চড় মারছিলো কোনো ভাবে l সরায়ে দিয়ে প্রমান করছে সৎ পথে না পারলেও অসৎ পথে মেয়েদের থামাতে হয়! আমরা থামাই …আমার সে লেখা টা এখন ও আছে আমার কাছে , সাথে সেই কষ্ট আমার মুখ বন্দ করার অসৎ চেষ্টার ! চলার পথে এরকম অনেক অভিগ্যতা এখন জীবনের, কিন্তু আমি ও এত কঠিন পদার্থে রূপায়িত হয়েছি…. না থামতে শিখেছি না কারো আমাকে থামানোর চেষ্টা কে থামাতে সুযোগ দিয়েছি আমি !
যদিও সামাজিক ভেদ বৈষম্যে মাঝে মাঝে আফসোস হয় পুরুষ না হতে পারার, কিন্তু সুস্থ বিচারে ..চিন্তায় আমি মেয়ে হয়ে ই জন্মা নিতে চাইবো যদি আবার জন্মা নেয়ার সুযোগ থাকে ! আর আমি বার বার আমার এই ভার্সন ই হতে চাইবো…..
Dr. N. Naher







