আমাদের ছয় ঋতুর দেশে এখন বর্ষা কাল, এ সময় টা দেশে আসলে আমার অনেক ভালো লাগে l চারিদিকে চক চকে শান্ত সবুজ l প্রকৃতি যেন তার সমস্ত ভালোবাসা উজাড় করে সব ধুয়ে দিয়ে , এমন চক চকে করে গেছে সব সবুজ কে ♥
ঘুম থেকে উঠে আমার রুটিন 🧘♂ ইওগা মেডিটেশন শেষ করে ব্যালকনি তে দাঁড়িয়ে চারদিকের সবুজ দেখে
অনেক ভালো লাগছিলো, মনে হচ্ছিলো
কি শান্ত সবুজ মনের শান্তির জন্য
এরকম প্রকৃতি অনেক পাওয়ার ফুল l
মুহূর্তে ই মনে হলো এই শান্তির দেশের
মানুষ এর মন কত ই না শান্ত থাকার
কথা, আসলে ই কি শান্ত আমাদের মন ?
শান্তির দেশে বাসকরা সবাই ব্যাস্ত এখন
রাতের ঘুম এর কোটা পুরো করছে l
কারন রাত জেগে সবাই কে ডিজিটাল খোরাক হতে হবে l
মোবাইল এর মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে নিজের অস্তিত্ব উপলব্ধির জন্য এক মুহূর্ত কি আছে আমাদের নিজেদের
চিন্তা শক্তি কে বিনিয়োগ করার? যদি থাকতো তাহলে কি সবকিছু অন্য রকম হতো না ?
কি রকম হতো?
আমি আমার নিজের কথা ই বলি l ভীষণ স্বার্থপর আমি নিজেকে অনেক ভালোবাসি, আমার কাছে আমার প্রায়োরিটি সবার/ সবকিছুর উপরে l কে আমাকে কতটা গুরুত্ব দিবে তার উপর ভিত্তি করে আমি নিজেকে মুল্যায়ণ করবো বা করতে হবে আমি এরকম চিন্তা করি না l
যাই হোক ডিজিটাল কানেকশন এর সাথে নিজের চিন্তার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলছিলাম যখন নিজের ব্যাস্ততা শেষ করে রিলাক্স হয়ে মোবাইল হাতে নিয়েছি আমি কিন্তু শারীরিক ভাবে ক্লান্ত এখন মোবাইল হাতে কি করছি আমি
কি করা উচিত? এ প্রশ্ন নিজেকে কেউ
করতে ই পারে না , তার আগে ই ডিজিটাল শিকার হয়ে যায় সবাই ব্রেন কে ক্লান্ত করার চক্রে শিকার l
আমি এর ব্যাতিক্রম আমি নিজে কে থামিয়ে প্রশ্ন করলাম এই ডিজিটাল চক্রে আমি শিকার হবো কি হবো না ?
অনেক টাফ এনসার l এক কথায় উত্তর দেয়া যাবে না
আমি অনেক ক্লান্ত যখন তখন আমার একটু শান্তির সময় চাই যা করে আমার ভালো লাগে সে স্বস্তির উপায় দরকার
এগুলো কি ডিজিটাল চক্র দিবে আমাকে?
হ্যা সব আছে ডিজিটাল ব্যাঙ্ক এ আপনাকে রাইট/ রঙ চুজ করতে হবে l গান শুনতে আমার ভালো লাগে মনের খোরাক গান শুনে রিলাক্সিং মুড এ যাওয়া যায়, বই পড়তে ভালো লাগে, বই ও পড়া যায় ডিজিটালি l আমি পড়ি l
অনেক সময় আমার চোখ ক্লান্ত থাকে , আমি বই এর অডিও ভার্সন শুনি l বই আপনার চিন্তার খোরাক যোগায়
শান্তির সাথে আমি আমার এই হিসাব নিকাশে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করি l ডিজিটাল প্লাটফর্ম কে আমাকে ব্যবহার করতে দেই না l
অন্য দিকে
ফেস বুক এর হাজার ফ্রেন্ড আর তাদের ভালোলাগা, খারাপ লাগা , তাদের শেয়ার করা হাজার ডিজিটাল চক্র
দেখে ব্রেন টা ক্লান্ত যেমন হয় , তেমন মানুসিক ভাবে আপনাকে কোনো না কোনো ভাবে একটা অস্থিরতা দিয়ে ও যায় l আমি আমার নিজের বিচার থেকে বলছি l এখন এখানে যদি নিজেকে প্রশ্ন করা যায় যে এই বিনোদনের দরকার ছিল কি ? অনেকের কাছে এরকম উত্তর পাবেন
বন্ধুত্ব বা তার সামগ্রিক ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স খারাপ কি , না খারাপ কিছু না কিন্তু এই কাজ এর জন্য আপনার একটা
সুস্থ সময়ের অসুস্থ বিনিয়োগ হলো কিনা এই হিসাব থাকা ও জরুরি l
আমার কাছে ফেইসবুক টা ফেকবুক মনে হয় মাঝে মাঝে l
আমার এক বন্ধুর বিবাহিত জীবন যখন শেষ হওয়ার শেষ পথে তখন সে যে প্রেমের স্টেটাস দিয়ে দুজনের ছবি আপডেট করলো আমি খুব খুশি হয়ে পার্সোনালি কল করে বললাম , “যাক ফাইনালি তোমরা ভালো সিদ্বান্ত নিয়েছো” উত্তর পেলাম , “আরে না মানুষ কে দেখানোর জন্য , জ্বলানোর জন্য “আমি ফেইসবুক এর ফেকবুক রিয়ালিটি
পেলাম l
আমি একজন কে জানি ভালো ধর্ম প্রচার করে, সে নিজে নামাজ এর মতো ফরজ কাজ ও করে না তার ধর্মীয় অনুভূতি থেকে l মা দিবসে যার লেখা পোস্ট দেখে
আপনার চোখে পানি এসে যাবে, এযুগের শ্রাবন কুমার ভেবে l আসলে সে পড়া লেখা শিখে এত শিক্ষিত হয়ে গেছে যে নিজের মা কে পরিচয় দিতে লজ্জা পায় l ডিজিটাল এই প্লাটফর্ম এর উপলব্ধি হলে এই চক্র থেকে শিকার হওয়া থেকে বাঁচা যায় l
আজকাল ফেসেবুক এ ভিডিও বাণিজ্য
আপনার অনেক সময় মুহূর্তে ই শেষ হয়ে যাবে, ভালো লাগে অনেক কিছু… হাসি, তামাশা , উপদেশ , জ্ঞান , এত কিছুর কি দরকার আছে ? এত কিছু যদি দরকার হয়
তাহলে আমার ভেতরে যা কিছু তার কি হবে?
ফ্রি কল সুবিধা থাকাতে অনেকে আপনার সাথে যোগাযোগ করে. I তাদের অপ্রয়জনীয় সময় এর সৎ ব্যবহার করে, কিন্তু আপনি এই অপ্রয়জনীয় সময় এ ব্যবহার হয়ে খুশি হওয়ার আগে চিন্তা করেন, যে আপনার সময় টা অপ্রয়োজ নিও ছিল কিনা l আপনি আপনার সময় টা কোথায় বিনিয়োগ করলেন ? বুদ্ধিমান হিসাবে নিজেকে প্রচার এর কাজ করলেন , নাকি নিজের সময় কে বুদ্ধিমত্তার সাথে
বিনিয়োগ করলেন l এই হিসাব টুকু করার সময় টা নিজেকে দেয়া জরুরি l
আমি ও এরকম ব্যাবহার হওয়ার অভিগ্যতা অর্জন করেছি এখন মনে হয় বোকা সময় পার করেছি l যখন বুদ্ধিমান হয়ে ফ্রি কলিং ইউসার সিস্টেম বন্দ করে দিয়েছি , দেবার পর আমি কারো মিসকল ও পাই না l
এই বার হিসাব করি নিজের স্বার্থপরতার কথা, নিজের শারীরিক মানুসিক সুস্থতার জন্য এই সময় গুলো যদি ব্যবহার করা যায় তাহলে কি আপনার সোশ্যাল সার্কলে আপনার মূল্য কম হয়ে যাবে মনে করেন? আসলে একজনের আরেকজন কে মূল্যায়ন এর ব্যাপার টা সম্পর্কের উপর l
আমি অনেক রকমের বন্ধুত্ব এড়িয়ে চলি, এটাও স্বার্থপরতা কিন্তু কোনো নেগেটিভ বন্ধুত্ব সম্পর্কে থাকা নিজের জন্য মঙ্গল জনক তো হতে পারে না এমনিতে সামাজিক ভাবে আমরা কিছু এমন সম্পর্কে থাকি বা থাকতে হয় তা পীড়া দায়ক হলে ও চালাতে হয় তার সাথে অন্য পীড়া চাই না তাই নিজেকে সবদিকে সুস্থও রাখার জন্য আমি ভালো থাকার সব রুলস ফলো করি l চাই একটু হিসাব করে ভালোথাকে সবাই l( 1st August 2024)
Dr. N. Naher



