আমার একান্তে বসে মনে হয়, কেন মানুষ যুদ্ধ করে ? কেন অশান্তি ? যারা করে তাদের কি খারাপ লাগে না ? নিজের মন থেকে প্রশ্ন আসে বার বার। আমি উত্তর খুঁজি। অনেক লম্বা সময় আমি এটা নিয়ে চিন্তা করি। আমার নিজের ক্যালকুলেশন থেকে আমার নিজের দার্শনিক বিচার বিবেচনায় এই জায়গায় কিছু কাজ করতে ইচ্ছা করছে। শুরু করি কিছু গবেষণা মূলক দার্শনিক বিচার।
যুদ্ধ বলতে আমরা কি বুঝি ?
এই গবেষণায় তথ্য ভিত্তিক বর্ণনা এরকম -…
যুদ্ধ হলো একটি সশস্ত্র সংঘাত যা রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে, অথবা সরকারি বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির মধ্যে যারা একটি নির্দিষ্ট কমান্ড কাঠামোর অধীনে সংগঠিত এবং সামরিক অভিযান পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখে, অথবা এই ধরনের সংগঠিত গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সংঘটিত হয়।
এটি সাধারণত নিয়মিত বা অনিয়মিত সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে ব্যাপক সহিংসতা, ধ্বংস এবং মৃত্যুহার দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। যুদ্ধ বলতে যুদ্ধের ধরণগুলির সাধারণ কার্যকলাপ এবং বৈশিষ্ট্যগুলিকে বোঝায়, অথবা সাধারণভাবে যুদ্ধের।
সম্পূর্ণ যুদ্ধ হল এমন যুদ্ধ যা সম্পূর্ণরূপে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং এর ফলে ব্যাপক বেসামরিক বা অন্যান্য অ-যোদ্ধাদের দুর্ভোগ এবং হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।
শব্দগত এই শব্দের আগমনের প্রতি শব্দ বিভ্রান্তি থেকে। বিভ্রান্তির বিশ্লেষন ভুল বুঝা।
সামান্য ভুল বোঝার থেকে জন্ম হয় যুদ্ধ, ছোট পরিসরে ছোট গন্ডির মাঝে ছোট ছোট যুদ্ধ মিলে শুরু হয় বড় যুদ্ধ ।
সামগ্রিক ভাবে আমরা সবাই জানি যে যুদ্বের ফলা ফল কারো না কারো জন্য খারাপ ই হবে, তবু ও আমরা এই যুদ্বে জড়াই আমরা আমাদের একটা অংশ হিসাবে এই যুদ্ধ কে আগে বাড়াই।
এবার আমার নিজের বিচার,… আমি জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের কিছু দৃশ্যমান যুদ্ধ ক্ষেত্র আলোচনা করবো।
পারিবারিক যুদ্ধ , সামাজিক যুদ্ধ , মানুসিক যুদ্ধ , রাজনৈতিক যুদ্ধ দেশ রক্ষার যুদ্ধ , ক্ষমতার যুদ্ধ ভালোবাসার যুদ্ধ।
যদিও যুদ্ধ আমাদের সংকিত করে তবু ও আমরা এই যুদ্ধ কে ভালোবাসার সাথে ই তুলনা করি, সম অধিকার দিয়ে বলে থাকি, ভালো বাসা আর যুদ্বে সব কিছু জায়েজ। আমি গোড়া থেকে বিশ্লেষন করে দেখাতে চাই।
মানুষ জন্ম নিয়ে একা পৃথিবীতে আসে , কিন্তু এই জন্মের পিছনে দুইজন মানুষের ভালোবাসার/ পারিবারিক / সামাজিক একটা বন্ধন থাকে। সাথে থাকে একটা সংগঠন যাকে আমরা পরিবার বলি। ভালোবাসা বা বন্ধুত্বেই সব সম্পর্কের শুরু হলে ও ভালোবাসায় টিকে থাকে না , সাথে ভালোবাসার সাথে বা ভালো বোঝা পড়ার মাঝে ও সমাপ্তি হয় না সম্পর্ক। টিকে থাকতে না চাইলে ই যুদ্বে নেমে যাই। এর পেছনে ও অনেক যুক্তি যুক্ত কারণ পাবেন।
পারিবারিক যুদ্ধ টা শুরু হয় কি থেকে ?
আমরা সবাই যখন আলাদা মানুষ সব কিছু আলাদা আমাদের। বুদ্দি , বিচার , জ্ঞান ভালো মন্দ বুঝবার ক্ষমতা ভালো লাগা মন্দ লাগা সব কিছু ই আলাদা। এটা ই স্বাভাবিক। ভালো বাসা দিয়ে দুই দিগন্তের দুইজনা সংসার শুরু হলে ও ভালোবাসা ছাড়া আর সব কিছুই থাকে সেখানে। এর পিছনের কারণ নিয়ে ভালো থাকার চিন্তার চেয়ে নিজের ইগো র একটা মানদণ্ড নিজের ভেতরে সেট হয়ে যায় এক পক্ষের , কখনো দুই পক্ষের।
এর পরে তার উপর ভিত্তি করে চাহিদা এরকম হয় যে আমি সঠিক আমাকে সবার বা আমার কথা সবাইকে মানতে হবে। এই যে একজনের উপর আরেক জনের নিজেকে চাপিয়ে দেয়া বা আরেক জনের উপরে শাসন শোষণ করা তার থেকে সম্পর্কে বিভ্রান্তি শুরু হয়।
এই বিভ্রান্তি তে সম্পর্ক যুদ্বে থাকে। কখনো সমাজের যুদ্ধ অস্ত্র ,কখনো পাছে লোকে কিছু বলে এই পারমাণবিক অস্ত্র ,কখনো বা ধর্মের অজুহাত, যা সম্পর্কে জাতিসংগের শান্তি চুক্তির ভূমিকায়, কখনো বা সম্পত্তির কূটনৈতিক ধূরন্ধরতা …এসব কারণ সম্পর্ক টিকিয়ে ও রাখে সাথে যুদ্ধ ও টিকিয়ে রাখে।
জীবনের সকল ক্ষেত্রে আমরা এই রকম যুদ্বের সম্পর্কে বেড়ে উঠি , যুদ্ধ করতে শিখি , নিজেকে বাঁচানো শিখি ,কখনো নিজের জন্য অন্য কে ব্যবহার করে টিকে থাকি।
এই যুদ্ধ ই ডাল পালা শেকড় মেলে আগে বাড়ে , ঘর থেকে বাইরের যুদ্ধ , সমাজের যুদ্ধ , রাজনীতির যুদ্ধ তারপর এক শহর থেকে অন্য শহর , এক দেশ থেকে অন্য দেশ তারপর যুদ্ধ বিশ্ব ময়।
বাইরের বিশ্বের যুদ্ধ টা যখন আমাদের সামনে আসে, তখন আমরা কত রকমের আহা জারি , কত রকমের সিম্পেথি দেখাই। কিন্তু বাস্তবে আমরা নিজেদের ভাগের যে যুদ্ধ বা নিজের তৈরি অন্যের উপর আগ্রাসন টা দেখতে বা বুঝতে চাই না দেখি না।
অন্যের যুদ্বে নাক গলিয়ে কত সময় নষ্ট করি কিন্তু দেখি না নিজের অবস্থান, নিজের আগ্রাসন।







