এটা একটা স্বপ্ন পুরুন অনুভূতি, যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন থেকে ই একটু পন্ডিত টাইপ তো ছিলাম, পারিবারিক লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে চিন্তা করতাম ওই মোটা উপন্যাস এর মতো একটা উপন্যাস লিখবো একদিন, সাথে যখন উপন্যাস এর কভার পেজ এ নিজের নাম কল্পনা করতাম তখন মনে হতো আমার নামের আগে ড. উপাধি থাকবে, তখন বুঝতাম না ড. উপাধি র কি কি মানে হতে পারে , খুব ডাক্তার হতে ইচ্ছা হতো, পড়ালেখার বিভাগের চক্র ভেদে ডাক্তার . উপাধি অর্জনের লাইন থেকে ছিটকে গেলাম। বাস্তবিকতা কে স্বাবাবিক ভাবে নিয়ে আগের চিন্তা করে স্বপ্ন পরিবর্তন করে নেই l তখন বুঝতাম ড. উপাধি অর্জনের পথ খোলা আছে যদিও সেবা মূলক ডাক্তারির পথে যেতে পারিনি।
ডাক্তারির স্বপ্ন ছেড়ে পরে পড়ালেখার সাথে নিজেকে নিরাপদ রাখার ভূমিকায় ও নিজের স্বপ্নের সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে টিচার হতে ইচ্ছা হল। বিয়ের আগের স্বপ্নে আমি চিন্তা করতাম ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে ইংলিশ অনার্স মাস্টার এ ভালো রেজাল্ট করলে সেখানে ই পারানো যায়। সেরকম স্বপ্ন নিয়ে ই পড়ছিলাম, বিয়ে জীবন থেকে এই স্বপ্ন টা ও কেড়ে নিলো l অনার্স পড়ার সুযোগ হলো না l পাসকোর্স এ বি, এ. করলাম l তার জন্য ও একরকম সামাজিক যুদ্বের টেকনিক ব্যবহার করতে হয়েছে l
যাই হোক থেমে থাকি নি , স্বপ্নের সাথে বসবাস আমার, জীবনে বেঁচে থাকতে স্বপ্নের বড় ভূমিকা, সাথে পরিশ্রম ও করেছি কত পথের কাটা সরিয়ে আগে বেড়েছি আমি l যখন পিএইচডি করি তখন ও এরকম শুনেছি পিএইচডি দিয়ে কি হবে শুধু সময় নষ্ট , আমি দেখেছি অনেকে এই বয়সে পড়া লেখা নিয়ে উপহাস ও করেছে , আমার সামনে আমার উপর হাসতে দেখেছি মানুষ কে। আসলে অনেকের ই মাইন্ড সেট এরকম মেয়েরা বিয়ের জন্য পড়া লেখা করে আর ছেলেরা ভালো ইনকাম এর উদ্দেশ্যে। হিসাবের গড়পড়তায় কেউ ই নিজের জন্য পড়া লেখা করে না।
আমি যখন কাতার স্কুল জয়েন করি তখন আমার এক মহিলা সহকর্মীর প্রশ্ন ছিল, “আপনি বিয়ের পরে এত পড়া লেখা কেন করলেন ? এই জব কি উদ্দেশ্য ছিল ?” আমি তাকে বললাম আমার বাবা চাচা রা আলীগড় ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেছিল , সেই যুগে …আর আমি এই যুগে দেশে বসে পড়া লেখা করবো না তা কি হয় ? যাই হোক পড়া লেখা আমার নিজের ইচ্ছায় করেছি শুনেছি অনেক কিছু ই কিন্তু মানি নি l পড়া লেখা করে গেছি l থামবো কিনা এই ডিসিশন আমার নিজের l ফাইনালি আমি ড. উপাধি অর্জন করি l
কিন্তু উপন্যাস এর পাতায় নিজের নাম লেখার পথে বিরাট বাধা , নিজেকে থামিয়ে দেয়ার মতো রিজন , লেখা না থামলে ও স্বপ্নের আগে বাড়ার সাহস টা যেন থমকে ছিল, জীবনে অনেক তালাবদ্দ রুমের চাবি খুলতে সময় লাগে … সকল তালা ভেঙে আমাকে আমার স্বপ্ন পুরুনের উড়ার শক্তি মিলেই যায় … এই যে আজকের আমি নিজেকে মুক্ত বিহঙ্গ মনে হয় নিজেকে আগে বাড়ার দৌড়ে। নিজেকে ভালোবেসে নিজেকে আগে বাড়ানোর গল্প টা ও লিখে যাবো একদিন। আজকে আমার এই স্বপ্ন পুরুনের গল্প টা সবার সাথে শেয়ার করছি। আরো জানার জন্য আমার বই পড়তে পারেন , যুক্ত থাকেন আমার ওয়েবসাইট ,https://fly2shine.com/ আমার পেজ (ওপেন বুক FLY 2 SHINE) https://www.facebook.com/profile.php?id=100070129500486&sk=about







